বিয়ের আগে চেকলিষ্ট

বিয়ের আগে আগে সবারই তাড়া থাকে । তাই এমন সময়ে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসটা বাদ পড়ে যাওয়া তেমন অস্বভাবাবিক কিছুনা। তাই  নিচের চেকলিস্টটি থেকে মিলিয়ে নিতে পারেন আপনার প্রয়োজনীয় কোন জিনিস বাদ পড়ে গেলো কিনা ।

 

বিয়ের শপিং লিস্ট কনের জন্য।

  1. লিপস্টিক
  2. লিপ লাইনার
  3. নেইল পলিশ
  4. ফেস পাউডার
  5. আই লাইনার
  6. মাসকারা
  7. আই শেডো বক্স
  8. মেকআপ বক্স
  9. শাম্পু ফর হেয়ার
  10. কনডিশনার
  11. ককোনাট ওয়েল
  12. সাবান
  13. সোপ বক্স
  14. পাউডার
  15. পাউডার বক্স
  16. টুথ পেস্ট
  17. টুথ ব্রাশ
  18. চিড়ুনি
  19. তোয়ালে
  20. রুমাল
  21. টিপ
  22. আইব্রো পেনসিল
  23. কাজল
  24. চুলের কিপ
  25. চুলের কাটা
  26. খোপা
  27. বডি লোশন
  28. মেহেদি টিউব
  29. গ্লিটার
  30. রাখি
  31. আয়না
  32. বডি স্প্রে
  33. পারফিউম
  34. সেফটিপিন (Golden & Silver)
  35. চুড়ি (glass, city gold)
  36. লাকের নথ (city gold)
  37. আলতা
  38. চুলের জন্য কাপড়ের ফুল
  39. কুমকুম টিপ
  40. ওড়না
  41. সেনডেল
  42. ফেসওয়াশ
  43. শাম্পু আফটার শাউয়ার
  44. সান স্ক্রিন বডি লোশন
  45. মাউথ ওয়াশ
  46. ফেস রিম
  47. হেয়ার স্ট্রেটনার
  48. ওলিভোয়েল/মেকআপ রিমুভার
  49. মশ্চারাইজার
  50. টোনার
  51. মেকাপ রিমুভার কটন
  52. ওরনামেন্ট ব্যাগ
  53. ঘড়ি
  54. রুমের জন্য স্যান্ডেল (নরম)
  55. মিস্ট
  56. হেয়ার ড্রায়ার
  57. হেয়ার স্প্রে
  58. নেইল কাটার
  59. ক্যানডেল
  60. লেইস
  61. ১ম শাড়ি (বেনারসি)-১ টি
  62. ২য় শাড়ি (জামদানি)-১টি
  63. ৩য় শাড়ি-১টি
  64. ৪থ শাড়ি-১টি
  65. সুতি শাড়ি-২ টি
  66. সেলোয়ার কামিজ- ২ সেট
  67. নাইট গাউন
  68. আন্ডারগার্মেন্টস
  69. ব্লাউজ
  70. পেটিকোট
  71. মোজা
  72. ট্রলি ব্যাগ
  73. ভেনেটি ব্যাগ/ পার্টি ব্যাগ
  74. গহনা (গোল্ড + সিটি গোল্ড)
  75. জায়নামাজ
  76. তাসবিহ
  77. কোরান শরিফ
  78. বোরকা/ স্কার্ফ
  79. আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারবর্গের জন্য পোষাক

বরের শপিং লিস্ট

  1. শেরওয়ানি
  2. পাগড়ি
  3. নাগড়া
  4. পাঞ্জাবি
  5. ওড়না
  6. চোস্ত পাজামা
  7. স্যান্ডেল
  8. সিনভার কালার রাখি
  9. জরির মালা
  10. লুঙ্গি
  11. রুমাল
  12. গামছা
  13. ব্লেজার
  14. টাই
  15. জুতো
  16. পারফিউম
  17. বডি স্প্রে
  18. মোজা
  19. গেঞ্জি
  20. ট্রাউজার
  21. ট্রলি ব্যাগ
  22. বেল্ট
  23. শার্ট
  24. পেন্ট
  25. শেভিং সেট

বিয়ের টমটম পালকি আর ব্যান্ড বাজনা

টমটম আদি ঢাকার একটি অন্যতম ঐতিহ্য । তাই অনেকেই চায় তার এই আনন্দের দিনটিতে একটু বাড়তি আয়োজন তুলে ধরতে । আমরা এই তথ্যকনিকায় জানাবো কোথায় কোথায় পাবেন টমটম গাড়ি ।

টমটম বা ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া নিতে চাইলে যেতে হবে ঢাকার গুলিস্তান ও নিউ সেক্রেটারিয়েট রোড ফুলবাড়িয়াতে। এখানে পেয়ে যাবেন টমটম ভাড়া দেওয়ার অনেকগুলো অফিস। দূরত্ব হিসেবে ভাড়াও ভিন্ন। একদিনের জন্য প্রতিটি টমটম ভাড়া ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। সিটি টমটমের কর্ণধার মো. মানিক মিয়া জানান, টমটম সমিতির আওতাভুক্ত ৩৩টি টমটম আছে।

বিয়ে ও নানান অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষভাবে তৈরি টমটমগুলো সপ্তাহের চারদিনই কাজ থাকে।

আগে থেকে বুকিং না দিলে বিশেষ করে শুক্রবার এসব টমটমগুলো পাওয়া যায় না।

যোগাযোগ:

নিউ সেক্রেটারিয়েট রোড ফুলবাড়িয়াতে বাংলাদেশ আদরের টমটম

সিটি টমটম

টুকুরাজা টমটম

নিশি টমটম

ভাই ভাই টমটম

আয়শা টমটম

ইমন টমটম ও বানিয়া টমটম

পালকিঃ বিয়েতে বাঙালি ঐতিহ্যের ছোঁয়া দিতে পালকি ব্যবহার করতে চাইলে খরচ পড়বে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। যোগাযোগ:

ঢাকার হাজী ওসমান গণি রোড আলু বাজারের ব্যান্ড পার্টির দোকানগুলোতে।

ব্যান্ডপার্টি এবং সানাইঃ যেখানে পাবেন: হাজী ‌ওসমান গনি রোড আলু বাজারে পেয়ে যাবেন ব্যান্ডপার্টির দোকান। পাচঁজনের একটি ব্যান্ড পার্টি ভাড়া করতে লাগবে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। সাতজনের জন্য লাগবে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। ১০ জনের জন্য লাগবে ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা।

 

 

বিয়ের শপিং নিয়ে হালকা খুটিনাটি

মানবজীবনের প্রধান তিনটি অধ্যায় হল জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ে। বিয়ে মানেই একটি আনন্দঘন মুহুর্ত। বিয়ের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু বর ও কনে। বিয়ের অনুষ্ঠানিকতা নিয়ে আত্মীয় স্বজনদের মধ্যেও থাকে ব্যাপক পস্তুতি। কেনাকাটা বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পাদন জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা যারা ঢাকাবাসী অনেকেই বিয়ের কেনাকাটার জন্য সঠিক স্থানের সন্ধান না পাওয়ার কারণে, বেশিদামে কিংবা অনেক আইটেম সম্পর্কে না জানার জন্য কেনাকাটা সঠিক হয়ে ওঠেনা। বিয়ের কেনাকাটা সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরা হল।

ঢাকা শহরে বিভিন্ন মার্কেট ও পাড়া মহল্লায় অল্প কিছু বিয়ের দোকান বিদ্যমান। এলিফ্যান্ট রোডে ৩০টির অধিক বিয়ের দোকান আছে। আর হিন্দুদের বিয়ের জন্য শাঁখারী পট্টির প্রায় পুরোটা জুড়ে রয়েছে অগনিত দোকান। আর পাইকারী কেনার জন্য ঢাকার চক বাজারে বেশ কতগুলো দোকান রয়েছে।

 

একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাধারণত যে সব পন্যের দরকার হয় এবং দাম কেমন সে সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-

 

আইটেম মূল্য
বরের শেরওয়ানি ১০০০০/- থেকে ৩০০০০/- টাকা
পাজামা ৫০০/- থেকে ১০০০/- টাকা
ওড়না ৭০০/- থেকে ১৫০০/- টাকা
পাগরী ১৫০০/- থেকে ৩০০০/-টাকা
নাগরজুতা ১৫০০/- থেকে ৬০০০/- টাকা
ডালা ২২০/- থেকে ৭০০/- টাকা
কুলা ১২০/- থেকে ৬০০/- টাকা
বাটি/প্রদীপ ১০/- থেকে ৫০/- টাকা
রাখী ৬০/- থেকে ১২০০/- টাকা
উপটান ৯০/- থেকে ১২০/- টাকা
সোন্দা ৯০/- থেকে ১২০/- টাকা
চন্দন ১২০/- থেকে ২০০/- টাকা
হলুদ ৯০/- থেকে ১২০/- টাকা
চন্দন তেল ১৫০/- থেকে ৩০০/- টাকা
সোহাগপুরী ৩৫০/- থেকে ৯৫০/- টাকা
আলতা ৩০/- থেকে ৬০/- টাকা
মেহেদী ৪০/- থেকে ১২০/- টাকা
পাটি ১৫০/- থেকে ১৬০০/- টাকা
হলুদ তোয়ালে ১২০/- থেকে ৪৫০/- টাকা
আফসান ২০/- থেকে ৩০/- টাকা
রুমাল ৫০/- থেকে ৩৫০/- টাকা
পালকি ১৫০/- থেকে ৬০০/- টাকা
ঝুড়ি ১০০/- থেকে ৭৫০ টাকা
মাছ ডালা ২৫০/-  থেকে ১২০০/- টাকা
টুথ পিক ২০/- থেকে ৫০/- টাকা
তাজা গোলাপ ফুল প্রতি হাজার পিস ৩০০০ টাকা প্রতি পিস ৫ থেক ১০ টাকা
সাদা ফুল প্রতি হাজার পিস ১২০০ টাকা প্রতি পিস ৪ থেক ৬ টাকা
রজনী গন্ধা প্রতি হাজার ২২০০ টাকা

প্রতি পিস ৫ থেকে ১০ টাকা।

 

হিন্দু বিয়ের যাবতীয় কেনা কাটা করা যাবে শাঁখারী পট্টিতে। এখানে দেশী পাশাপাশি ভারতীয় পণ্যের পণ্যের ব্যাপক প্রতাপ। মূল্যও তুলনামূলকভাবে কম। শাঁখারী পট্টিতে শোলার তৈরি পাগড়ি সহ বিভিন্ন আইটেম অর্ডার মাফিক বানানো ব্যবস্থা আছে।

 

বিয়ের পাইকারি বাজার

বিয়ের আইটেম সস্তায় কেনার জন্য চকবাজার পাইকারি মার্কেট একমাত্র উপায়। এখান থেকে সারা বাংলাদেশে পাইকারি বিক্রি হয়।

 

পাইকারী দরদাম

ডালা ও কুলা পাইকারি কেনা এবং বিক্রি হয় সেট হিসেবে (প্রতি সেটে থাকে তিনটি আইটেম)। পিস হিসেবেও বিক্রি হয়। ছোট সেট ৪০০-৫০০, মাঝারি ৮০০-১০০০ ও বড় সাইজের দাম ১২০০-১৫০০ টাকা। আজকাল রঙিন কাপড়ে মোড়ানো কারুকার্যখচিত ডালা ও কুলার চাহিদা বেশি। পাইকারি হিসাবে প্রতি পাটির দাম কারুকার্যখচিত ৫০০-৫৫০, সাধারণ ২২০-২৫০ টাকা।

নাগরা জুতার মধ্যে পাকিস্তানি মাথা কাটা নাগরার দাম ৮০০ এবং মাথা বাঁকা নাগরার দাম ১১০০-১২০০ টাকা। দেশি নাগরার দাম সাধারণ মানের ৩০০ এবং কারুকার্যখচিতগুলো ৪০০-৫০০ টাকা। রাজস্থানী পাগড়ি ভারত থেকে কেনার সময় পাইকারি দাম সর্বনিম্ন ১০০০ এবং সর্বোচ্চ ২৫০০ টাকা। পাগড়ির মালামাল অনেক সময় ভারত থেকে এনে দেশে ফিটিং করা হয়, এতে রেট অনেক কম পড়ে।

 

শেরওয়ানি পাইকারি কেনার সময় ভারতে দম সাধরণ মানেরগুলো ৪০০০-৫০০০ এবং ভালো মানের ১০০০০-১২০০০ টাকা।

 

ভাড়া

বিয়ের সাজ-পোষাকের কিছু কিছু আইটেম ভাড়া দেয়া হয়।

আইটেম ভাড়া
শেরওয়ানী ৩০০০ থেকে ৮০০০/-
পাগড়ী  ৩০০ থেকে ৮০০/-

 

উল্লেখ্য

  • আমদানী ব্যয় কিংবা বিশেষ বিশেষ কারণে উল্লেখিত দামের হের ফের হতে পারে।
  • ভাড়া নেয়া শেরওয়ানী ওয়াশ করে ফেরত দিতে হয়।
  • পোষাক জাতীয় পন্য ক্রয়ের আগে ট্রায়াল দেবার ব্যবস্থা আছে।
  • ভিডিও, স্টিল ফটোগ্রাফি ও সাজসজ্জার দরকার হলে দোকানগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগের ব্যবস্থা আছে।
  • ক্রয়কৃত পন্য ফেরৎ নেয়া হয় না।
  • নগদ টাকার মাধ্যমে ক্রয় করতে হয়।
  • পাইকারির জন্য চকের খান মার্কেট, মরিয়ম প্লাজা সহ বেশ কয়েকটি মার্কেটে শত শত দোকান বিদ্যমান।

সীমিত আয়ে বিয়ের পুর্ব প্রস্তুতি

আমাদের দেশে বিয়ে মানেই আনন্দ উৎসব, গেট টুগেদার ,খাওয়া দাওয়া, গান-বাজনা, মজা করা, নতুন কারো সাথে পরিচয় আরও অনেক কিছু। এই সব কিছুর মাঝে গুরুত্বপূর্ণ আর একটি জিনিস হচ্ছে বিয়েতে বর কনের কেনাকাটা । তারা বিয়ের আগের দিন, বিয়ে তে এবং রিসেপশনে কি কি পরবে। তার জন্য কেনাকাটা তো করতেই হবে। আমার ছোট ছোট স্কুলে পড়ুয়া কাজিন গুলোকে দেখি এখনি তারা বিয়ে তে কি পড়বে তা নিয়ে বিশাল চিন্তা ভাবনা শুরু করেছে। তেমনি প্রত্যেকটা মানুষের অনেক দিনের ইচ্ছা থাকে বিয়ে তে তার পছন্দের ডিজাইন আর রঙের পোশাক পরবে, এভাবে সাজবে। সবাই তো আর বিয়ে তে অঢেল টাকা পয়সা খরচ করতে পারে না। তবুও একটু বুঝে শুনে চিন্তা ভাবনা করে চললে নিজের এতদিনের ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব সীমিত অর্থের মধ্যে ও।

বর-কনের পছন্দে হোক তাদের কেনাকাটা

সাধারণত আমাদের দেশে ছেলেদের বাড়ি থেকে পাঠানো হয় বিয়ে তে মেয়ের পোশাক সহ বাকি আনুসঙ্গিক জিনিস পত্র। আর মেয়েদের বাড়ি থেকে পাঠানো হয় ছেলের পোশাক এবং আনুসঙ্গিক । অনেক পরিবারে রেওয়াজ থাকে যে তত্ত্ব পাঠানোর আগে কেউ ই দেখতে পারবে না কার জন্য কি কেনা হয়েছে। একটা মানুষ সারাজীবন স্বপ্ন দেখল বিয়ে তে লেহেঙ্গা পড়বে কিন্তু তাকে দেওয়া হল শাড়ি। ছেলে চাইল বিয়েতে পড়বে শেরওয়ানি তাকে দেওয়া হল পাঞ্জাবী । টাকা দিয়ে জিনিস কিনবেন সে জিনিস যদি পছন্দ না হয় তবে তো পুরো কেনাকাটা ই বৃথা । তাই সীমিত অর্থে যারা বিয়ের কেনাকাটা করতে যাচ্ছেন দুই পরিবার থেকেই কেনাকাটা করার সময় বর-কনে কে সঙ্গে নিয়েই যান।

 পোশাক হোক সামর্থ্যর মধ্যে

বিয়ের শাড়ি সহ বৌভাত , গায়ে হলুদ এবং অন্যান্য শাড়ীর জন্য হয়তো বরাদ্দ রয়েছে মোট ৫০ হাজার টাকা কিন্তু আপনি গিয়ে হুট করে পছন্দ করে ফেললেন একটি শাড়ী ই ৩০ হাজার টাকা। তাহলে তো হবে না। সাধ হোক সাধ্যর মধ্যেই ।

 ভাড়ায় পোশাক

সাধারণত শুধু কাবিনের বিয়ে তে বর কে তার নিজের টাকায় ই পোশাক কিনে বিয়ে করতে যেতে হয়। তাই বলছি যদি আপনি শেরওয়ানি বা পাঞ্জাবী খুব বেশি একটা পরতে না পছন্দ করেন তবে শুধু একদিনের জন্য ভাড়া করতে পারেন পাঞ্জাবী অথবা শেরওয়ানি।

 পরিবারের গহনায় বিয়ে হোক

এই মুহূর্তে যদি বিয়েতে বউ কে খুব বেশি স্বর্ণ দেওয়ার সামর্থ্য না থাকে তবে আপনার পরিবারের স্বর্ণ অর্থাৎ আপনার মা অথবা বড় বোনের গহনা দিয়ে বিয়ে করে ফেলুন। কিন্তু স্বচ্ছতা অবশ্যই রাখবেন সম্পর্কে তাই তাকে আগেই জানিয়ে রাখুন পুরো ব্যাপারটি যে এই স্বর্ণ শুধুই বিয়ের দিনের জন্য তাকে দেওয়া হচ্ছে। তখন আপনাকে এখনই সব স্বর্ণ কিনতে হবে না।

 গোল্ড প্লেটেড গহনায় রিসেল ভেল্যু

এখন প্রায় সব বিয়ে তেই বউ দের এই গহনা পরতে দেখা যায়। অবশ্যই রিসেল ভেল্যু দেখে সাধ্যর মধ্যে গোল্ড প্লেটেড গহনা কিনুন।

 শুধুই প্রয়োজনীয় জিনিস

শুধুই প্রয়োজনীয় জিনিসই কিনুন। আপনি বিয়ে করতে যাচ্ছেন বলে যে প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় সব কিছুই কিনে ফেলতে হবে ব্যাপারটা এমন নয়। ধরুন কনে একেবারেই ভারী মেকআপ ব্যবহার করে না। তার জন্য কিন্তু বেস মেকআপ এর কিটস কেনা একেবারেই টাকার অপচয়। এরকম অনেক জিনিস আছে। যার জন্য জিনিস কেনা হচ্ছে যদি সে থাকে তবে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকা যাবে।

কেনাকাটায় অভিজ্ঞ কেউ

কেনাকাটায় অভিজ্ঞ খুব, এমন একজন মানুষ সাথে নিয়ে যান ।দরদাম করতে সুবিধা হবে আর আপনিও ঠকে আসবেন না বিয়ের বাজার করতে গিয়ে।

 পরিচিত দোকান অথবা দোকানীর পরিচিত কেউ

একটি অভিজ্ঞতা বলি। আমার ভাইয়ের বিয়েতে যখন শাড়ী কিনতে গেলাম যে শাড়ী আমাদের কাছে ২০ হাজার চাওয়া হয়েছিল পরের দিন ফাইনালি শাড়ী কিনতে দোকানীর পরিচিত একজন কে নিয়ে যাওয়ায় সে একই শাড়ী আমাদের কাছে চাওয়া হয়েছে ৮ হাজার। তফাৎ টা নিজেই বুঝে গেলেন।

কয়েক দোকান ঘুরে কিনুন

কয়েক দোকান ঘুরে ঘুরে আপনার জিনিস পত্র কিনুন। ঘুরতে থাকুন দাম সম্পর্কে ধারণা হবে। ঘুরতে দেখলে দোকানীও ডাকবে আর একবার দাম বলে ঐ দামে অটুট থাকুন । দামে লাভ হলে আর মিলে গেলে দেখা যাবে আপনাকে দোকানী ঐ দামেই দিয়ে দিবে।

 জুতা কিনুন এক জোড়া ই

যেহেতু জুতা শাড়ির আড়ালে থাকায় ঠিকমত দেখাও যায় না তাই জুতা এক জোড়াই কিনুন। টাকার অপচয় করবেন না।

বিয়ের জন্য ঋণ দিচ্ছে যে নয়টি ব্যাঙ্ক

মানুষের জীবনে আনন্দঘন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হচ্ছে বিয়ে।বিয়ে তাই শুধু এখন আনুষ্ঠানিকতা নয় তার চেয়ে বেশি হয়ে দাড়িয়েছে দীর্ঘদীন পর কাছের মানুষ গুলোকে এক সাথে পাবার উপলক্ষ্য। তাই এই দিনটিকে ঘিরে নানা আয়োজনে যাতে  কোন ধরনের আপোষ করতে না হয় সে জন্য  ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশের নয়টি ব্যাংক ।

কিছু ব্যাংক সরাসরি বিয়ের জন্য ঋণ দিচ্ছে আর কিছু ব্যাংক ব্যক্তিগত ঋণ দিচ্ছে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য।

প্রাইম ব্যাংক
প্রাইম ব্যাংক সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়। সুদের হার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ। এ ঋণ পেতে আবেদনকারী চাকরিজীবী হলে তাঁর মাসিক আয় ১০ হাজার টাকা এবং আত্মকর্মসংস্থানকারী হলে তাঁর মাসিক আয় ২৫ হাজার টাকা হতে হবে।
এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে।

ট্রাস্ট ব্যাংক
বিয়ের ঋণ যদি অভিভাবক নিতে চান, তবে তাঁর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছর এবং যিনি বিয়ে করবেন তিনি যদি নিজেই আবেদনকারী হন, তাহলে তাঁর বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে। অভিভাবকদের আয়ের উৎসের ওপর ভিত্তি করে এ ঋণ দেওয়া হয়। আর যিনি বিয়ে করবেন, তিনি নিজে আবেদনকারী হলে বিয়ের যেকোনো ধরনের প্রমাণ (এগ্রিমেন্ট) এ ক্ষেত্রে লাগবে। ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ তিন বছর। সে ক্ষেত্রে সুদের হার ১৭ শতাংশ। ঋণগ্রহীতা চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ী হলে তাঁর আয় মাসিক ২০ হাজার টাকা হতে হবে।

এইচএসবিসি ব্যাংক
এ ব্যাংকে ঋণ পেতে চাকরিজীবী হলে তাঁর আয় কমপক্ষে ৪০ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে আয়ের প্রমাণসাপেক্ষে ৫০ হাজার টাকা হতে হবে। যদি আবেদনকারী অটো পে অথবা সেপস গ্রাহক হন, তবে মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকা হতে হবে। আবেদনকারীর বয়স ২৩ থেকে ৬০ বছর হতে হবে। যদি আপনি অটো পে গ্রাহক হয়ে থাকেন, তবে মাসিক আয়ের ছয় গুণ এবং সেপস গ্রাহক হয়ে থাকেন, মাসিক আয়ের ১০ গুণ পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে। সুদের হার ১৯ শতাংশ। প্রতিটি ঋণই মাসিক কিস্তিতে চার বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। কোনো ব্যক্তিগত গ্যারান্টার বা নগদ জামানতের প্রয়োজন নেই।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংক
ব্যাংকে পারসোনাল লোনের সাবপ্রোডাক্ট হলো বিয়ের ঋণ। অর্থাৎ শুধু বিয়ের উদ্দেশ্যকে প্রাধান্য দিয়ে এ ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। আবেদনকারী চাকরিজীবী হলে তাঁর মাসিক আয় ১০ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী হলে তাঁর মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকা হতে হবে। বিয়ের আনুষ্ঠানিক খরচের লক্ষ্যে এ ব্যাংক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়ে থাকে। এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এ ঋণ পরিশোধ করতে হয়। সুদের হার ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

ইস্টার্ন ব্যাংক
ইস্টার্ন ব্যাংক সরাসরি বিয়ের জন্য ঋণ দেয় না। এ ব্যাংকে পারসোনাল লোনের এনি পারপাসের আওতায় যে ঋণ দেওয়া হয়, তাতে আবেদন ফরম পূরণের সময় বিয়ের উদ্দেশ্যে এ ঋণ নেওয়া হচ্ছে, তা লিখে দিতে হবে। আবেদনকারীর বয়স ২২ থেকে ৬০ বছর হতে হবে। আবেদনকারী চাকরিজীবী হলে তাঁর আয় ১৫ হাজার এবং ব্যবসায়ী হলে তাঁর আয় ২৫ হাজার টাকা হতে হবে। সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এ ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। সুদের হার ১৫ শতাংশ। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ এক থেকে পাঁচ বছর।

সিটি ব্যাংক
এ ব্যাংক থেকে বিয়ের উদ্দেশ্যে আপনি ঋণ নিতে পারেন সিটি সলিউশনের মাধ্যমে। ঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ১২ থেকে ৬০ মাস। সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে কোনো গ্যারান্টার লাগবে না। প্রসেসিং ফি ১ দশমিক ৫ শতাংশ। আবেদনকারী চাকরিজীবী হলে তাঁর মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকা। আত্মকর্মসংস্থানকারী হলে তাঁর আয় ২৫ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী হলে তাঁর আয় ৩০ হাজার টাকা হতে হবে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক
পারসোনাল লোনের আওতায় এ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া যায়। তবে আবেদন ফরমে অবশ্যই বিয়ের উদ্দেশ্যে এ ঋণ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করতে হবে। সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এ ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এ ঋণ পরিশোধ করতে হয়। সুদের হার পরিবর্তনশীল। প্রসেসিং ফি ঋণের পরিমাণের দুই শতাংশ। আবেদনকারীর আয় ১৫ হাজার টাকা হতে হবে।
বিয়ের আয়োজন করা সহজ কথা নয়। আবার ধুমধাম করে বিয়ে করার শখটাও তো একদম জলাঞ্জলি দেওয়া যায় না।তাই স্টুডিও টাইমস দিচ্ছে খুব সহজেই ঋণ গ্রহনের ব্যবস্থা যেখানে আপনি কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়াই করতে পারবেন আবেদন।