সীমিত আয়ে বিয়ের পুর্ব প্রস্তুতি

আমাদের দেশে বিয়ে মানেই আনন্দ উৎসব, গেট টুগেদার ,খাওয়া দাওয়া, গান-বাজনা, মজা করা, নতুন কারো সাথে পরিচয় আরও অনেক কিছু। এই সব কিছুর মাঝে গুরুত্বপূর্ণ আর একটি জিনিস হচ্ছে বিয়েতে বর কনের কেনাকাটা । তারা বিয়ের আগের দিন, বিয়ে তে এবং রিসেপশনে কি কি পরবে। তার জন্য কেনাকাটা তো করতেই হবে। আমার ছোট ছোট স্কুলে পড়ুয়া কাজিন গুলোকে দেখি এখনি তারা বিয়ে তে কি পড়বে তা নিয়ে বিশাল চিন্তা ভাবনা শুরু করেছে। তেমনি প্রত্যেকটা মানুষের অনেক দিনের ইচ্ছা থাকে বিয়ে তে তার পছন্দের ডিজাইন আর রঙের পোশাক পরবে, এভাবে সাজবে। সবাই তো আর বিয়ে তে অঢেল টাকা পয়সা খরচ করতে পারে না। তবুও একটু বুঝে শুনে চিন্তা ভাবনা করে চললে নিজের এতদিনের ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব সীমিত অর্থের মধ্যে ও।

বর-কনের পছন্দে হোক তাদের কেনাকাটা

সাধারণত আমাদের দেশে ছেলেদের বাড়ি থেকে পাঠানো হয় বিয়ে তে মেয়ের পোশাক সহ বাকি আনুসঙ্গিক জিনিস পত্র। আর মেয়েদের বাড়ি থেকে পাঠানো হয় ছেলের পোশাক এবং আনুসঙ্গিক । অনেক পরিবারে রেওয়াজ থাকে যে তত্ত্ব পাঠানোর আগে কেউ ই দেখতে পারবে না কার জন্য কি কেনা হয়েছে। একটা মানুষ সারাজীবন স্বপ্ন দেখল বিয়ে তে লেহেঙ্গা পড়বে কিন্তু তাকে দেওয়া হল শাড়ি। ছেলে চাইল বিয়েতে পড়বে শেরওয়ানি তাকে দেওয়া হল পাঞ্জাবী । টাকা দিয়ে জিনিস কিনবেন সে জিনিস যদি পছন্দ না হয় তবে তো পুরো কেনাকাটা ই বৃথা । তাই সীমিত অর্থে যারা বিয়ের কেনাকাটা করতে যাচ্ছেন দুই পরিবার থেকেই কেনাকাটা করার সময় বর-কনে কে সঙ্গে নিয়েই যান।

 পোশাক হোক সামর্থ্যর মধ্যে

বিয়ের শাড়ি সহ বৌভাত , গায়ে হলুদ এবং অন্যান্য শাড়ীর জন্য হয়তো বরাদ্দ রয়েছে মোট ৫০ হাজার টাকা কিন্তু আপনি গিয়ে হুট করে পছন্দ করে ফেললেন একটি শাড়ী ই ৩০ হাজার টাকা। তাহলে তো হবে না। সাধ হোক সাধ্যর মধ্যেই ।

 ভাড়ায় পোশাক

সাধারণত শুধু কাবিনের বিয়ে তে বর কে তার নিজের টাকায় ই পোশাক কিনে বিয়ে করতে যেতে হয়। তাই বলছি যদি আপনি শেরওয়ানি বা পাঞ্জাবী খুব বেশি একটা পরতে না পছন্দ করেন তবে শুধু একদিনের জন্য ভাড়া করতে পারেন পাঞ্জাবী অথবা শেরওয়ানি।

 পরিবারের গহনায় বিয়ে হোক

এই মুহূর্তে যদি বিয়েতে বউ কে খুব বেশি স্বর্ণ দেওয়ার সামর্থ্য না থাকে তবে আপনার পরিবারের স্বর্ণ অর্থাৎ আপনার মা অথবা বড় বোনের গহনা দিয়ে বিয়ে করে ফেলুন। কিন্তু স্বচ্ছতা অবশ্যই রাখবেন সম্পর্কে তাই তাকে আগেই জানিয়ে রাখুন পুরো ব্যাপারটি যে এই স্বর্ণ শুধুই বিয়ের দিনের জন্য তাকে দেওয়া হচ্ছে। তখন আপনাকে এখনই সব স্বর্ণ কিনতে হবে না।

 গোল্ড প্লেটেড গহনায় রিসেল ভেল্যু

এখন প্রায় সব বিয়ে তেই বউ দের এই গহনা পরতে দেখা যায়। অবশ্যই রিসেল ভেল্যু দেখে সাধ্যর মধ্যে গোল্ড প্লেটেড গহনা কিনুন।

 শুধুই প্রয়োজনীয় জিনিস

শুধুই প্রয়োজনীয় জিনিসই কিনুন। আপনি বিয়ে করতে যাচ্ছেন বলে যে প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় সব কিছুই কিনে ফেলতে হবে ব্যাপারটা এমন নয়। ধরুন কনে একেবারেই ভারী মেকআপ ব্যবহার করে না। তার জন্য কিন্তু বেস মেকআপ এর কিটস কেনা একেবারেই টাকার অপচয়। এরকম অনেক জিনিস আছে। যার জন্য জিনিস কেনা হচ্ছে যদি সে থাকে তবে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকা যাবে।

কেনাকাটায় অভিজ্ঞ কেউ

কেনাকাটায় অভিজ্ঞ খুব, এমন একজন মানুষ সাথে নিয়ে যান ।দরদাম করতে সুবিধা হবে আর আপনিও ঠকে আসবেন না বিয়ের বাজার করতে গিয়ে।

 পরিচিত দোকান অথবা দোকানীর পরিচিত কেউ

একটি অভিজ্ঞতা বলি। আমার ভাইয়ের বিয়েতে যখন শাড়ী কিনতে গেলাম যে শাড়ী আমাদের কাছে ২০ হাজার চাওয়া হয়েছিল পরের দিন ফাইনালি শাড়ী কিনতে দোকানীর পরিচিত একজন কে নিয়ে যাওয়ায় সে একই শাড়ী আমাদের কাছে চাওয়া হয়েছে ৮ হাজার। তফাৎ টা নিজেই বুঝে গেলেন।

কয়েক দোকান ঘুরে কিনুন

কয়েক দোকান ঘুরে ঘুরে আপনার জিনিস পত্র কিনুন। ঘুরতে থাকুন দাম সম্পর্কে ধারণা হবে। ঘুরতে দেখলে দোকানীও ডাকবে আর একবার দাম বলে ঐ দামে অটুট থাকুন । দামে লাভ হলে আর মিলে গেলে দেখা যাবে আপনাকে দোকানী ঐ দামেই দিয়ে দিবে।

 জুতা কিনুন এক জোড়া ই

যেহেতু জুতা শাড়ির আড়ালে থাকায় ঠিকমত দেখাও যায় না তাই জুতা এক জোড়াই কিনুন। টাকার অপচয় করবেন না।

Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *